Article 35A and Article 370 of Indian Constitution

জম্মু কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক ধারা 35A এবং 370

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জম্মু কাশ্মীরের সাথে ভারতের বাকী রাজ্যগুলিকে আলাদা করে রেখেছে সংবিধানের দুটি ধারা Article 35A and Article 370 । এই ধারায় জম্মু কাশ্মীরের নাগরিকদের বিশেষ সাংবিধানিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা অন্য রাজ্যের নাগরিকরা এই রাজ্যে এলে পায় না। এই বিষয়ে এই বিভাগে আমরা বিশেষ আলোচলা করব।

আলোচনার বিষয়বস্তু এক পলকে দেখে নেওয়া যাকঃ-

  1. Article 35A and Article 370 কবে থেকে চালু হয়েছে?
  2. কোন সরকারের সময়ে Article 35A and Article 370 চালু হলো ?
  3. Article 35A and Article 370 এই ধারায় কি আছে?
  4. এই Article 35A and Article 370 দ্বারা জম্মু কাশ্মীরের নাগরিকরা কি বিশেষ সুবিধা পায়?
  5. বর্তমান পরিস্থিতিতে Article 35A and Article 370 বিতর্কের কেন্দ্রে কেন ?
  6. Article 35A and Article 370 ধারা কি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিলোপ করা সম্ভব?

Article 35A and Article 370 কবে থেকে চালু হয়েছে?

Article 35A

  • ১৯৫৪ সালে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার The Constitution (Application to Jammu and Kashmir) Order, 1954″ এর মাধ্যমে  Article 35A কে মূল সংবিধানের পরিশিষ্ঠের সাথে যুক্ত করা হয়।

Article 370

  • ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই ২২ শে আগস্ট পাকিস্তানিরা কাশ্মীর আক্রমণ করলে, কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হরি সিং, ভারত সরকারের কাছে ভারতে অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান এবং পাকিস্তানি আক্রমন প্রতিরোধের জন্য সেনা সাহায্যের আর্জি জানান। সেই সময় রাজা হরি সিং এর সাথে ” ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেস” চুক্তি হয়, এটাই আসলে ৩৭০ ধারা।

কোন সরকারের সময়ে Article 35A and Article 370 চালু হলো ?

Article 35A

  • ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নির্দেশে Article 35A কে সংবিধানের সাথে যুক্ত করা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ।

Article 370

  • ” ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেস” চুক্তি হয়েছিলো তৎকালীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং কাশ্মীরের রাজা হরি সিং এর সঙ্গে। এই চুক্তি অনুযায়ী ধারা ৩৭০ সংবিধানে যুক্ত হয়।
Educational Tips:   http://edutips.In  

Article 35A and Article 370 এই ধারায় কি আছে?

Article 35A

  • ১৯৪৭ সালে প্রযুক্ত ধারা ৩৭০ এ কাশ্মীরিদের সুবিধার্থে যে বিষয়গুলি তখন যুক্ত করা হয়নি, তারই সম্পূর্ণ রূপ এই ধারা ৩৫এ ।
  • ধারা ৩৫এ এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ধারা ৩৭০ কে আরো জোরালো এবং মজবুত করা হয়।
  • এই ধারা অনুযায়ী একমাত্র জম্মু কাশ্মীরের আইনসভাই স্থির করতে পারে কারা জম্মু এবং কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা।
  • বাইরের রাজ্যের কোন নাগরিক জম্মু এবং কাশ্মীরের কোন আস্থাবর সম্মত্তির মালিক হতে পারবে না।
  • এমনকি যদি জম্মু এবং কাশ্মীরের কোন মহিলা বাইরের রাজ্যের কোন পুরুষকে বিবাহ করেন, তবে তিনি এবং তার সন্তানেরাও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
  • এই রাজ্যের স্কলারশিপ এবং সরকারী অনুদান শুধুমাত্র এই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই পাবেন।
  • অন্য রাজ্যের কোন বাসিন্দা এই রাজ্যে চাকরির সুভিদা পাবেন না।

Article 370

  • ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা-পররাষ্ট্র বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারত সরকার এখানে আইন প্রয়োগ করতে পারে।
  • এই বিষয়গুলি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গেলে জম্মু ও কাশ্মীর  রাজ্য সরকারের বিশেষ সম্মতিও দরকার।
  • সংবিধানের ৩৬০ ধারা অনুযায়ী অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা এই রাজ্যে ঘোষনা করা যাবে না।
  • ৩৭০ ধারা অনুযায়ী এই রাজ্যের বাসিন্দারা দুটি নাগরিকত্বের বিশেষ সুবিধা পায়।
  • ১৯৭৬ সালের ভুমি সংক্রান্ত আইন এই ধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তার ফলে ভারতের অনান্য রাজ্যের বাসিন্দারা এই রাজ্যের জমি কিনতে পারবেন না। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা শুধুমাত্র এই রাজ্যের বাসিন্দাদের হাতে থাকবে।
  • ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা এই রাজ্যে নাগরিকত্বের সুবিধা পাবেন না, কিন্তু পাকিস্তানের কেউ জম্মু ও কাশ্মীরের মেয়ে বিয়ে করলে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।
  • মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পায়।
  • বিধান সভার মেয়াদ ৬ বছর করা হয়, যেখানে অন্য সব রাজ্যে ৫ বছর।
  • এই ধারা অনুযায়ী এই রাজ্যে RTI, CAG, RTE লাগু হবে না।
  • জম্মু ও কাশ্মীরের হিন্দু এবং শিখ অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ১৬% সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে না। ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় এই ধারায় রয়েছে।

এই Article 35A and Article 370 দ্বারা জম্মু কাশ্মীরের নাগরিকরা কি বিশেষ সুবিধা পায়?

  • এই ধারা অনুযায়ী একমাত্র জম্মু কাশ্মীরের আইনসভাই স্থির করতে পারে কারা জম্মু এবং কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা।
  • বাইরের রাজ্যের কোন নাগরিক জম্মু এবং কাশ্মীরের কোন আস্থাবর সম্মত্তির মালিক হতে পারবে না।
  • এমনকি যদি জম্মু এবং কাশ্মীরের কোন মহিলা বাইরের রাজ্যের কোন পুরুষকে বিবাহ করেন, তবে তিনি এবং তার সন্তানেরাও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
  • এই রাজ্যের স্কলারশিপ এবং সরকারী অনুদান শুধুমাত্র এই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই পাবেন।
  • অন্য রাজ্যের কোন বাসিন্দা এই রাজ্যে চাকরির সুভিদা পাবেন না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে Article 35A and Article 370 বিতর্কের কেন্দ্রে কেন ?

  • ভারতের সংবিধানের ৩৬৮ ধারায় সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি বিষদভাবে বর্নিত আছে। সংবিধানে নতুন কিছু সংযোজন বা বাদ দিতে হলে যে পদ্ধতি অবলম্বনের প্র্য়োজন তা এই 35A সংযোজনের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি।
  • শুধুমাত্র একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে এটিকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
  • পার্লামেন্টের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।পার্লামেন্টের মতামত এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।
  • এই ধারা সংযোজনের ফলে ভারতের বাকী রাজ্যের নাগরিকদের সাথে জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের একটা বৈষ্ম্য সৃষ্টি হয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী।
  • একজন ভারতবাসী হিসাবে ভারতের যে কোনও প্রান্তে বসবাস এবং জমি কেনার অধিকারকে এই ধারায় খর্ব করা হয়েছে।
  • জম্মু ও কাশ্মীরের মহিলাদের অধিকার ক্ষুন্ন করা কয়েছে, ভিন রাজ্যের পুরুষের সাথে বিবাহ করলে তাদের সুগোগ সুভিদা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
  • এই ধারায় সংবিধানের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে।বংশ পরম্পরায় যে সব তপশিলী জাতী এবং উপজাতীর মানুষেরা এখানে বাস করত তারা বৈষ্ম্যের শিকার।
  • ১৯৫৭ সালে “বাল্মিকী”দের একটি বিশেষ শর্তে এখানকার স্থায়ী নাগরিকত্ত্বের অধিকার দেওয়া হয় । সেই শর্তে ছিল বাল্মীকিরা এখানে শুধুমাত্র “সাফাই কর্মী” হিসাবে কাজ করবে, তাদের সন্তানেরাও ঐ সাফাইকর্মী হবে। এইভাবে ছয় দশক অতিক্রান্ত হবার পর তাদের সন্তনেরা চাইলে অন্য পেশায় যেতে পারবে।
  • ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং পুঁজিপতিরা জমির মালিকানার সমস্যায় এখানে শিল্প গড়তে আগ্রহ দেখায় না।

Article 35A and Article 370 ধারা কি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিলোপ করা সম্ভব?

  • একটি এনজিও ৩৫এ ধারার বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথমে দিল্লী হাইকোর্টে মামলা করে, সেই মামলা খারিজ হয়ে গেলে পরে সুপ্রিমকোর্টে মামলা করে। সেই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।
  • সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনে, এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে ধারা ৩৭০ বিলোপ করা সম্ভব।
  • ফারুক আব্দুল্লার মত রাজনীতি বিদরা  মনে করেন শুধুমাত্র ‘‘কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা গণপরিষদ” এই ধারা সংশোধন করতে পারে। তাই এই ধারা সংশোধন করতে হলে আবার গনপরিষদ গঠনের দরকার।

আরো পড়ুনঃ মিরাজ ২০০০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *