সংবিধানের মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতিসমূহ

ভারতের সংবিধান-৩

সংবিধানের মৌলিক অধিকারঃ

সংবিধানের তৃতীয় পরিচ্ছদ অর্থাৎ পার্ট-৩ তে ১২ নম্বর ধারা থেকে ৩৫ নম্বর ধারা পর্যন্ত মৌলিক অধিকার গুলি বর্নিত আছে। সংবিধান প্রনয়নের সময় মূল সংবিধানে ৭ টি মৌলিক অধিকার ছিল, কিন্তু বর্তমানে সংবিধানে ৬ টি মৌলিক অধিকার। এখন দেখে নেওয়া যাক এই ৬ টি মৌলিক অধিকার কি কি ?

  1. সাম্যের অধিকার (১৪-১৮ ধারা)
  2. স্বাধীনতার অধিকার (১৯-২২ ধারা)
  3. শোশনের বিরুদ্ধে অধিকার (২৩-২৪ ধারা)
  4. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (২৫-২৮ ধারা)
  5. শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার এবং (২৯-৩০ ধারা)
  6. সংবিধান প্রতিবিধানের অধিকার (৩২ এবং ২২৬ ধারা)
  • সংবিধানের 14 নম্বর ধারা অনুযায়ী সাম্যের অধিকার বলতে বোঝায় ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত কোন ব্যক্তি ভারতের রাষ্ট্রের আইনের দৃষ্টিতে সাম্য এবং সকল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত থাকবে কোন ভাবেই বঞ্চিত হবে না ।
  • সংবিধানের 16 নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে আর সাম্যের অধিকার বলা হয়েছে। অর্থাৎ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে স্ত্রী এবং পুরুষ ভিন্ন বংশ বর্ণ বংশ এবং জন্মস্থান এ পার্থক্য থাকলেও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এই কারণ গুলি বলে বিবেচিত হবে না অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না ।
  • সংবিধানের 17 নম্বর ধারা অনুযায়ী অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কে অস্পৃশ্যতার কারণ দেখিয়ে এটা থেকে কোন সুযোগ সুবিধা থেকে জীত করা হবে না বঞ্চিত করা হবে না
  • সংবিধানের 18 নম্বর ধারা অনুযায়ী পদবী বিলোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রে এবং বিদ্যা বিষয়ক ক্ষেত্র ছাড়া কোন ব্যক্তি কে খেতাব দান করতে পারবে না। সরকারি অতবি পদবী বা খেতাম খেতাব সাধারণ জনসাধারণের মধ্যে শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে বলে এগুলি বিলোপ করা হয়েছে। যেমন আগে রাজা মহারাজা রায় বাহাদুর সম্রাট প্রভৃতি খেতাব দেয়া হতো বর্তমানে 18 নম্বর ধারা অনুযায়ী এগুলি সব বন্ধ।
  • সংবিধানের 19 নম্বর ধারা অনুযায়ী স্বাধীনতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সাত প্রকার স্বাধীনতার অধিকার আছে। যেমন বাক স্বাধীনতা শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র ভাবে সমাপ্ত হওয়ার অধিকার সমিতি গঠনের অধিকার স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার স্বাধীনভাবে বসবাস ও বসতি স্থাপনের অধিকার যে কোন বৃত্তি অবলম্বন করার অধিকার।
  • চাকরির পরিক্ষার কোচিং । প্রশ্ন-উত্তর-সাজেশন-পি.ডি.এফ । সম্পুর্ন বাংলায় : http://edutips.in

মৌলিক অধিকারগুলির কিছু বৈশিষ্ঠ্যঃ

  • মৌলিক অধিকার জনগনের মানবাধিকারের মূল ভিত্তি ।
  • মৌলিক অধিকার আদালত কর্তৃক বলবৎ যোগ্য। 
  • মৌলিক অধিকারগুলি অবাধ বা নিরঙ্কুশ নয় ।
  • সব মৌলিক অধিকার সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত ।
  • এই অধিকারগুলির সংশোধন করতে হলে, সংবিধানের সংশোধন ঘটিয়ে করা হয় ।
  • দেশের আইনবিভাগ এবং শাসন বিভাগ, মৌলিক অধিকারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না।
  • মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হলে, আদালতের শরনাপন্ন হয়ে তার প্রতিকার পাওয়া যায়।
  • কিন্তু, জরুরী অবস্থা চলাকালীন মৌলিক অধিকার আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয় ।
  • মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিসমূহের মধ্যে মৌলিক অধিকারকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ১৯৮০ সালে মিনার্ভা মিলস কেস অনুসারে, মৌলিক অধিকারকে রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিসমূহের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে ।
  • সুপ্রীম কোর্ট ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এবং হাইকোর্ট ২২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্দেশ জারীর মাধ্যমে এই অধিকারগুলিকে বলবৎ রেখেছেন ।
  • সম্পত্তির অধিকার আগে মৌলিক অধিকার ছিল এবং 30 নম্বর ধারায় ছিল । (১৯৭৮ সালের ৪৪ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে   সম্পত্তির অধিকারকে বর্তমানে 300(A) ধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ইহা এখন শুধুমাত্র আইনি অধিকার।)
  • ভারতের মৌলিক অধিকার গুলি আমেরিকা যুক্ত্রাষ্ট্রের সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে ।
  • মৌলিক অধিকার গুলি বল বদ করার জন্য হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট ৬ প্রকার রিট জারি করতে পারে, যথা বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus), পরমাদেশ (Mandamus), প্রতিরোধ (Prohibition)  অধিকার পৃচ্ছা (Certiorari) এবং উৎপ্রেষণ (Quo warranto) ।
  • চাকরির পরিক্ষার কোচিং । প্রশ্ন-উত্তর-সাজেশন-পি.ডি.এফ । সম্পুর্ন বাংলায় : http://edutips.in

রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি সমূহঃ

বৈশিষ্ট্যঃ

  • নির্দেশমূলক নীতি হল সরকার দ্বারা আইন প্রনয়নের নীতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা ।
  • নির্দেশমূলক নীতি গুলি আদালত কর্তৃক যোগ্য নয়,
    অর্থাৎ নির্দেশমূলক নীতি লঙ্ঘিত হলে আদালতে বিচার পাওয়া যায় না ।
  • নির্দেশমূলক নীতি আদতে রাষ্ট্রের উপর কিছু নৈতিক দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্র কোন আইন পাস করে তা কার্যকরী করতে পারে না ।
  • 1935 সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী গভর্নর এবং গভর্নর জেনারেলদের জন্য কিছু নির্দেশাবলী জারি করা হয়েছিল তার অধিকাংশই আজকের এই নির্দেশমূলক নীতি ।
  • রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি গুলি সংবিধানের 36 থেকে 51 ধারার মধ্যে লিপিবদ্ধ করা আছে
  • মূল সংবিধানে 13 টি নির্দেশমূলক নীতি ছিল, 1976 সালে 42 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আরো আটটি নির্দেশমূলক নীতি যুক্ত করা হয়েছে ।
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি গুলি আয়ারল্যান্ডের সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
  • রাষ্ট্র আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই নির্দেশমূলক নীতি গুলিকে মেনে চলবে কিন্তু নীতি গুলিকে আইনে পরিণত করবে না ।
  • নির্দেশমূলক নীতির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণকামী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ।

মৌলিক কর্তব্যঃ

  • মৌলিক কর্তব্য হল জনগনের নৈতিক দায়িত্ববোধ । নাগরিকদের দেশাত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং ঐক্য স্থাপন করা এর মূল লক্ষ্য ।
  • সংবিধানের ধারা অনুযায়ী 11 টি মৌলিক কর্তব্য আছে ।
  • মূল সংবিধানে কর্তব্য ছিল 10 টি মৌলিক কর্তব্য ছিল
  • 2002 সালে 86 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে 11 তম মৌলিক কর্তব্য অনুযায়ী বলা হয়েছে,- “6 থেকে 14 বছর বয়সী প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে”। এটি হলো মাতা পিতার মৌলিক কর্তব্য ।
  • মৌলিক কর্তব্য গুলি রাশিয়ার সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
সংবিধান সম্পর্কিত কিছু মামলাঃ
  • গোলকনাথ মামলা 1967ঃ
    এই মামলা অনুযায়ী পার্লামেন্ট মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে না,  মৌলিক অধিকার হরন করা যাবে না।
  • কেশবানন্দ ভারতী মামলা 1973ঃ
    এই মামলা অনুযায়ী বলা হয় পার্লামেন্ট মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে।
  • মিনেরভা মিলস কেস 1980ঃ
    এই মামলা অনুযায়ী বলা হয় মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মৌলিক অধিকা্রকে নির্দেশমূলক নীতির আগে প্রাধান্য দেওয়া হবে
  • পশ্চিমবঙ্গ সরকার বনাম কেন্দ্রীয় সরকার মামলা 1963ঃ
    এই মামলা অনুযায়ী বলা হয় কেন্দ্র সরকার যেকোনো অঙ্গরাজ্যের সম্পত্তি দখল করতে পারে, সেখানে সেই অঙ্গরাজ্য কোন প্রকার বাধা দান করতে পারবে না ।
ছাত্রছাত্রীদের কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাস্য থাক


লে তোমরা নিচের কমেন্ট বক্সে জানাও। যথাশীঘ্র উত্তর দেওয়া হবে। এই পোস্ট থেকে তোমরা উপকৃত হলে, তবেই লেখার সার্থকতা আসবে।

আরো পড়ুনঃ ভারতের সংবিধান প্রনয়নের পটভূমি, সবিধানের বৈশিষ্ঠ্য এবং প্রস্তাবনা

আরো পড়ুনঃ ভারতীয় সংবিধানের রূপরেখা-তফশিল-অংশ এবং ধারা

আরো পড়ুনঃ সাব-ইনস্পেক্টর অফ ফুড এবং সাপ্লাই পরিক্ষা-2014 সালের প্রশ্নপত্র এবং উত্তর

আরো পড়ুনঃ West Bengal Sub-Inspector of Food & Supply Examination-2018, Exam date, Syllabus and Exam Preparation in bengali

 

4 thoughts on “সংবিধানের মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতিসমূহ”

  1. মৌলিক অধিকার ভোগ করতে কোন তিনটি মামলা important

    1. গোলকনাথ মামলা 1967ঃ
      এই মামলা অনুযায়ী পার্লামেন্ট মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে না,  মৌলিক অধিকার হরন করা যাবে না। 
      কেশবানন্দ ভারতী মামলা 1973ঃ
      এই মামলা অনুযায়ী বলা হয় পার্লামেন্ট মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে।
      মিনেরভা মিলস কেস 1980ঃ
      এই মামলা অনুযায়ী বলা হয় মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মৌলিক অধিকা্রকে নির্দেশমূলক নীতির আগে প্রাধান্য দেওয়া হবে ।

  2. কেন্দ্রীয় জন কৃত্যক কমিশনের কাজ(U.P.S.C) er note chai

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *